প্রকাশ : ... | ... | ...

সংসদের সাউন্ড সিস্টেমে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের অনুসন্ধান


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন, মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাহিদুর রহিম জোয়ারদারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুদকের মহাপরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, জাহিদুর রহিম জোয়ারদারের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য খাতে মেডিকেল ইকুইপমেন্ট কেনার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগেও অনুসন্ধান চলছে। এদিকে, খুলনা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. রশীদুজ্জামানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুদক। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় এ মামলা করা হবে। সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন ও সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ দুদক সূত্রে জানা গেছে, সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন ও সংস্কারের কাজ নিয়ে অনিয়ম এবং জাহিদুর রহিমের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে গত ৯ এপ্রিল অনুসন্ধান শুরু হয়। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের কাজ শুরু হয়। তবে সংসদ অধিবেশন চলাকালে একাধিকবার ওই ব্যবস্থায় বিভ্রাট দেখা দেয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনে প্রবেশ করলে সাউন্ড সিস্টেমটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেটির মেরামত ও সংস্কার করা হয়। দুদক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গণপূর্ত বিভাগের জাতীয় সংসদ ভবন কার্যালয়ের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) মো. আস্রাফুল হকের তত্ত্বাবধানে কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের সিইও জাহিদুর রহিম জোয়ারদার সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে মেরামত ও সংস্কারের কাজও তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। বরাদ্দের পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম মেরামত ও সংস্কারের জন্য ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ব্যয় করা হয় পাঁচ কোটি টাকা। এই কাজে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে কমিশন। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদার পরস্পরের যোগসাজশে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান এখনো চলমান।