প্রকাশ : ... | ... | ...

গাজায় মানবিক করিডর না খুলে ‘শান্তির প্রদর্শনী’, ট্রাম্পকে ম্যাক্রোঁর কটাক্ষ


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগৃহীত

গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি উঠলেও সেখানে মানবিক সহায়তা প্রবেশের কোনো করিডর পুনরায় চালু হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উপস্থাপনেরও সমালোচনা করেছেন তিনি। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ম্যাক্রোঁ এসব কথা বলেন। আগামী বছরের মে মাসে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার আগে জাতিসংঘে এটিই তাঁর শেষ ভাষণ। ম্যাক্রোঁ বলেন, গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের কোনো পথ এখনো পুনরায় চালু হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে তথাকথিত শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বিশ্ব কি শুধু দাঁড়িয়ে থেকে এই ‘লজ্জাজনক প্রদর্শনী’ দেখবে। এর আগে একই মঞ্চে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প তাঁর গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন। পরে ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের জবাবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি দাবি করেন, ট্রাম্প ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন, জীবিত সব জিম্মিকে মুক্ত করেছেন এবং নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন। গাজায় ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নেতৃত্বও ট্রাম্প দিচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর গাজা পরিস্থিতিতে নিষ্ক্রিয় থাকা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন ম্যাক্রোঁ। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার সমালোচনা করেন তিনি। ম্যাক্রোঁর ভাষ্য, পশ্চিম তীরে প্রতিদিনের লঙ্ঘনের ঘটনা ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্ব ও অধিকারকে সম্মান করার ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্রমেই অসম্ভব করে তুলছে। তিনি আরও বলেন, পশ্চিম তীরে হামাস কখনো সক্রিয় ছিল না। ইসরায়েলের সঙ্গে ফ্রান্সের সম্পর্ক গত এক বছরে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে ম্যাক্রোঁ বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব—এমন ধারণা ভুল। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—দুই সময়েই ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে দুর্বল করছে। ভাষণে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নিয়েও সতর্ক করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, বিশ্ব যেন আবার ‘জঙ্গলের আইনের’ দিকে ফিরে না যায়। শক্তি ও বলপ্রয়োগনির্ভর একটি বিশ্বব্যবস্থা এবং একটি ‘সভ্য আন্তর্জাতিক সমাজের’ মধ্যে বেছে নেওয়ার পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে দেশগুলো। জাতিসংঘের বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন জানিয়ে ম্যাক্রোঁ বলেন, নতুন করে দায়মুক্তির কোনো ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না। ভাষণের শেষ দিকে তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ দীর্ঘজীবী হোক।’