| ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে স্বাধীন ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রধান মালয়-মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল (বিআরএন)। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ অবস্থানের কথা জানান সংগঠনটির শান্তি আলোচনাবিষয়ক প্রতিনিধি দলের মুখপাত্র নিকমাতুল্লাহ সেরি। তিনি বলেন, লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। বিআরএনের পক্ষ থেকে দক্ষিণাঞ্চলে রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি থাই সরকারের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি কাঠামোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান নিকমাতুল্লাহ। প্রস্তাব অনুযায়ী, পাঁচ থেকে ১০ বছরের একটি অন্তর্বর্তী সময়ে অঞ্চলটি পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায় সংগঠনটি। এ সময়ে মুসলিমদের জন্য শরিয়াহভিত্তিক পুলিশ ও আদালত ব্যবস্থা চালুর কথাও বলা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সময় শেষে জনগণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নির্ধারণ করবে বলে জানান তিনি। ঐতিহাসিকভাবে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল মালয়-মুসলিম অধ্যুষিত। অঞ্চলটি একসময় পাতানি সালতানাতের অংশ ছিল। ১৯০০-এর দশকের শুরুতে তৎকালীন সিয়াম রাজ্যের সঙ্গে এর রাজনৈতিক সংযুক্তি ঘটে। এরপর থেকেই স্থানীয় মালয় মুসলিমদের একটি অংশ ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অধিকারের বিষয়ে অধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়ে আসছে। ২০০৪ সালে এই অঞ্চলের সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়। ডিপ সাউথ ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় থেকে সহিংসতায় সাত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সংঘাত নিরসনে ২০১৩ সাল থেকে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় থাই সরকার ও বিআরএনের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছে। তবে বিভিন্ন সময়ে আলোচনার প্রক্রিয়া স্থবির হয়েছে। গত জুলাইয়ে পাঁচ সেনা নিহত হওয়ার একটি হামলার পর ব্যাংকক শান্তি আলোচনা স্থগিত করে। সাম্প্রতিক সহিংসতায় বিআরএনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিকমাতুল্লাহ নিশ্চিত বা অস্বীকার করেননি। অন্যদিকে থাই সরকার জানিয়েছে, রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সংঘাতের সমাধান সম্ভব হলেও দেশের সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে কোনো সমাধান গ্রহণযোগ্য হবে না। ভৌগোলিকভাবে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল মালয়েশিয়ার সীমান্তবর্তী হওয়ায় সংঘাতের প্রভাব দেশটির উত্তরাঞ্চলেও পড়ে। ফলে দীর্ঘদিনের এই সংকটে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।