প্রকাশ : ... | ... | ...

নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পরোক্ষ বৈঠক, হরমুজ প্রণালি খোলা নিয়ে আলোচনা


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টার এই আলোচনায় যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়টি উঠে আসে। তবে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি মুখোমুখি বৈঠক করেছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দিনভর মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকের ফাঁকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। উইটকফের ভাষ্য, মধ্যস্থতাকারীরা দিনভর দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ করে একটি দফা আলোচনা শেষ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই আলোচনা গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক হবে এবং মধ্যস্থতাকারীরা তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন। অন্যদিকে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। তাঁর দাবি, বৈঠকটি ‘খুব ভালো’ ও ‘খুব ফলপ্রসূ’ হয়েছে এবং এর ফলে একটি চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার গতি তৈরি হয়েছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প নিজে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে উইটকফ ও কুশনার আলোচনায় অংশ নেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে উইটকফের বৈঠকের কথা নিশ্চিত করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে মূলত ইরানের বার্তা ও শর্তগুলো জানার চেষ্টা করা হয়। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়টি আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ছাড় এবং ‘প্রতিরোধ ফ্রন্টে’ যুদ্ধ বন্ধ করা। এর আগে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, কূটনৈতিক উদ্যোগ এগিয়ে নিতে নিউইয়র্কে থাকা ইরানি প্রতিনিধিদলের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। তাঁর মতে, আলোচনায় ফেরার জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। ওই কর্মকর্তা জানান, ১৬ সেপ্টেম্বর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে নিউইয়র্কে আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাবও ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।