প্রকাশ : ... | ... | ...

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দিল্লিতে বিরোধীদের বিক্ষোভ, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ অনেকে


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে দিল্লিতে বিক্ষোভ করেছেন ভারতের বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র প্রায় ৩০০ সাংসদ। মঙ্গলবার সংসদের মকরদ্বার থেকে নির্বাচন সদনের দিকে মিছিল নিয়ে গেলে নীতি আয়োগের কার্যালয়ের সামনে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ; পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। এই ইস্যুতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন তারা। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে মকরদ্বার থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলে রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং এনসিপির সুপ্রিয়া সুলেসহ বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন। নির্বাচন সদনের পথে নীতি আয়োগের কার্যালয়ের সামনে পুলিশ মিছিল থামিয়ে দিলে সেখানে অবস্থান নেন বিরোধী সাংসদেরা। এ সময় রাহুল গান্ধীসহ কয়েকজন পুলিশি ব্যারিকেডের ওপর উঠে প্রতিবাদ জানান। পরে কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে বাসে তুলে নেওয়া হয়। এরপর রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন আকাশবাণী ভবন চত্বরে অবস্থান নেন। নির্বাচন সদনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সেখানেও তাদের আটকে দেওয়া হয়। দুপুরে সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য তারা এই আন্দোলন করছেন। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে প্রায় ৩০০ জন সাংসদ চাইলেও তাদের সেখানে যেতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন, অথচ কমিশন তাদের সঙ্গে দেখা করছে না—এমন পরিস্থিতিতে গণতন্ত্রের অর্থ কী? রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবত এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একই প্রসঙ্গে টেনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, মোদি, শাহ ও ভাগবত ‘ভোট চুরি’ করে দেশকে ‘হাইজ্যাক’ করেছেন এবং জ্ঞানেশ কুমার তাদের সহায়তা করেছেন। বিজেপির পক্ষ থেকে রাহুল গান্ধীকে আবার রাজনৈতিকভাবে ‘লঞ্চ’ করার চেষ্টা চলছে—এমন মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে রাহুল বলেন, বিজেপি কী বলল, তাতে তাঁর কিছু যায় আসে না। এরপর তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু ওদের মোকাবিলা করছি না। আমরা ওদের ধ্বংস করে দেব।’ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে বলেন, তাদের লড়াই অবিচারের বিরুদ্ধে। স্বাধীনতার পর পাওয়া সর্বজনীন ভোটাধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার সরকারের ‘হাতের পুতুল’ হয়ে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন খড়্গে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে একতরফাভাবে ৯০ লাখ মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে বহু আবেদন এখনো অমীমাংসিত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তারের দাবিও জানান অভিষেক। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ উঠেছে। ২০১৭, ২০১৯, ২০২২ ও ২০২৪ সালেও কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি করেন তিনি। এবার পশ্চিমবঙ্গে কমিশন ‘নির্লজ্জের মতো’ আচরণ করেছে বলেও মন্তব্য করেন অখিলেশ। বিরোধীদের মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচিকে ঘিরে সংসদ ও নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশের ব্যারিকেড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই দিনভর বিক্ষোভ চালিয়ে যান বিরোধী সাংসদেরা।