প্রকাশ : ... | ... | ...

ফিফা সভাপতির প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার শুরু, আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতিতে উয়েফা


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগৃহীত

ফিফার প্রধান টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর চাপ আরও বেড়েছে। পরিকল্পনাটি বাতিল করা হলেও একের পর এক ফুটবল সংস্থা তাঁর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করছে। একই সঙ্গে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজেস’ (এফএফই) নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করে ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর শেয়ার বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। তবে বিশ্বজুড়ে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা ও আপত্তির মুখে গত শনিবার ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে সেই পরিকল্পনা বাতিল করে। পরিকল্পনা ঘোষণার পর উয়েফাভুক্ত দেশগুলো ফিফার টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকি দেয়। পাশাপাশি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফও উদ্যোগটির তীব্র নিন্দা জানায়। পরিকল্পনা বাতিল হলেও ইনফান্তিনোর প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারেনি ফিফা। ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএডব্লিউ) ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোকে দেওয়া সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, শাসনব্যবস্থা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা এবং যোগাযোগের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার কারণে তিনি বিশ্ব ফুটবলের নেতৃত্বে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও (এফএ) ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের পক্ষে দেওয়া সমর্থনপত্র প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে গত শনিবার সংস্থাটি ফিফার শাসনব্যবস্থার ‘পূর্ণাঙ্গ ও কঠোর পর্যালোচনার’ দাবি জানায়, যাতে বিশ্ব ফুটবলের পরিচালনা আরও স্বচ্ছ হয়। এদিকে উয়েফা বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইনজীবীদের মাধ্যমে ইনফান্তিনোর কাছে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে। নোটিশে ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজেস’-সংক্রান্ত সব নথি ও তথ্য ধ্বংস না করে সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের মার্চে ফিফা কংগ্রেসে পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ইনফান্তিনোর বর্তমান মেয়াদ আগামী বছর শেষ হবে এবং তিনি চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক এই বাণিজ্যিক বিতর্ক এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সমর্থন হারানোর কারণে তাঁর পুনর্নির্বাচনের পথ এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।