জাতিসংঘে চার দিনের সফরে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময়ে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণসহ সাতটি স্থানে বক্তব্য দিয়েছেন এবং অংশ নিয়েছেন ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে। সফরের এসব কার্যক্রমের তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন জানান, সফরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক। বৃহস্পতিবার তিনি কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন। বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা, জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানো, জ্বালানি নিরাপত্তা, খনিজ খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয় উঠে আসে। তিন দেশই প্রধানমন্ত্রীকে নিজ নিজ দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিতে চায় সরকার। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার সকালে জেপি মরগান চেজের আয়োজনে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসাকে স্বাগত জানানো হয়। বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো আলোচনায় আসে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচির মধ্যে পাঁচটিতে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে দেওয়া ভাষণ ছাড়াও সাইডলাইনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে চারটি, বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে একটি এবং উন্নয়ন সহযোগীদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে একটি বক্তব্য দেন তিনি। সব মিলিয়ে সাতটি স্থানে বক্তব্য দেওয়ার তথ্য জানান মাহদী আমিন। সফরে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের মহাসচিব, মিয়ানমারবিষয়ক মহাসচিবের বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হাইকমিশনারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। গেটস ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি উন্নয়ন অংশীদার এবং স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গেও কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। রোহিঙ্গা সংকট এবং মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি নিয়ে বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জলবায়ু পরিবর্তন, জাস্ট ট্রানজিশন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির বিষয়েও উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। সফরে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং চারটিতে বক্তব্য দেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি-সংক্রান্ত অনুষ্ঠান ছিল। এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তাঁর বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন বলে জানান মাহদী আমিন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্রের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, চার দিনে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা প্রায় ৮০টি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ছোট প্রতিনিধিদল নিয়ে সফরে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং প্রতিটি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে দেশের পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারের পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, মানবতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।