| ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, রাজপথের অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের সমন্বয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয়তাবাদী যুবদলে নতুন নেতৃত্ব আসার প্রত্যাশা করছেন নেতাকর্মীরা। নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। বিশেষ করে সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্য থেকে যোগ্য, সাহসী ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতৃত্ব উঠে আসবে—এমন প্রত্যাশা ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সিদ্ধান্তে কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে নতুন কমিটির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা রাজনৈতিক মহলেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। আলোচনায় সাবেক ছাত্রনেতারা নতুন কমিটি ঘিরে আলোচনায় উঠে আসছে ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা একাধিক পরিচিত মুখের নাম। তেজগাঁও কলেজ থেকে ছাত্ররাজনীতির পথ পেরিয়ে মহানগর ছাত্রদলে দায়িত্ব পালন করা মিজানুর রহমান রাজ রয়েছেন আলোচনায়। অন্যদিকে, তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের রাজনীতিতে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা অর্জন এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলে দুই দফায় পদ-পদবি ও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আবুল হাসান চৌধুরী। বিশেষ করে ২০২২-২৩ সালে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁর নামকে আলোচনায় রেখেছে বলে নেতাকর্মীদের একটি অংশের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। এ ছাড়া তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি তসলিম আহসান মাসুম এবং মিরপুর বাংলা কলেজ ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত শিমুলের নামও আলোচনায় রয়েছে। ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক পরিচিতি এবং যুবদলের রাজনীতিতে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে তাঁদের ঘিরেও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। অভিজ্ঞদের নামেও চলছে আলোচনা তরুণ নেতৃত্বের পাশাপাশি অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্য থেকেও সম্ভাব্য নেতৃত্ব নির্বাচনের আলোচনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে মনিরুল ইসলাম স্বপন, আবুল হাসান টিটু ও জুলহাসসহ আরও কয়েকজনের নাম আলোচনায় উঠে আসছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততাকে বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের মধ্য থেকেও কেউ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন বলে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশা রয়েছে। ত্যাগ, যোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতাই হোক নেতৃত্ব নির্বাচনের মাপকাঠি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, একটি কার্যকর ও গতিশীল কমিটি গঠনে শুধু পরিচিতি নয়, বরং রাজনৈতিক ত্যাগ, দুঃসময়ে দলের পাশে থাকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মীবান্ধব মনোভাব এবং নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা তরুণদের অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের পরামর্শের সমন্বয় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলকে আরও গতিশীল করতে পারে। নতুন কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা—এমন নেতৃত্ব আসুক, যারা পদ-পদবির চেয়ে সংগঠনকে বড় করে দেখবেন; ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কর্মীদের মূল্যায়ন করবেন এবং রাজপথের পরীক্ষায় নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দেবেন। সব মিলিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটি ঘিরে এখন আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছেন একাধিক সাবেক ছাত্রনেতা ও অভিজ্ঞ সংগঠক। তবে শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসছেন, তা নির্ভর করবে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর। ত্যাগ, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতার যথাযথ মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে একটি শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও কর্মীবান্ধব কমিটি গঠিত হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের। নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল ফিরে পাক সাংগঠনিক প্রাণচাঞ্চল্য, ঐক্য ও গতিশীলতা—এটাই তৃণমূলের প্রত্যাশা।