| ছবি: সংগৃহীত
২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে পৌনে পাঁচশো কোটি টাকার মূল বিল ও ২৪ কোটি টাকার ভ্যাট মিলিয়ে অর্ধহাজার কোটি টাকারও বেশি ভূতুড়ে বিল ইস্যুর ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট চারজনকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সরাসরি ভুক্তভোগী গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের বাসিন্দা মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শালিখা উপজেলার আড়পাড়া জোনাল অফিস থেকে অস্বাভাবিক এই বিলটি পাঠানো হয়েছিল। গত ১০ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা বিলটিতে পরিশোধের শেষ তারিখ ছিল ২৯ সেপ্টেম্বর। অস্বাভাবিক বিলটি হাতে পেয়ে চরম বিপাকে পড়েন ওই গ্রাহক। ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী আলেয়া খাতুন বলেন, "বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালির কারণে এমন বিল এসেছে। এটা আমাকে চরম দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল।" বিলের কপি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মাসে মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের মূল বিল ধরা হয়েছিল ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর ওপর ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট যুক্ত হয়ে মোট পাওনা দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ যা আদায়ের কথা বলা হয়েছিল ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা। পরে ভুল ধরা পড়লে দ্রুত বিল সংশোধন করে দেওয়া হয়। শালিখা উপজেলার আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "মিটারের ইউনিটের পরিমাণটি ঠিক ছিল। বিলের কপিটি সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত বিল এসেছে এক হাজার ৯৬৩ টাকা। গ্রাহক আলেয়া খাতুন ইতোমধ্যে বিলটি পরিশোধও করে দিয়েছেন।"