২০২৬ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতার প্রভাব এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে এর চ্যালেঞ্জ নিয়ে রাজধানীতে আলোচনা সভা হয়েছে। সভায় নির্বাচনী সহিংসতা কমাতে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার, ভোটার শিক্ষা ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অধিকার ও ইপিডির যৌথ আয়োজনে ‘২০২৬ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা: গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে প্রভাব’ শীর্ষক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অধিকার-এর পক্ষ থেকে ইপিডির সহযোগিতায় পরিচালিত নির্বাচনী সহিংসতা পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কোরবান আলী। অধিকার-এর পরিচালক তাসকিন ফাহমিনার সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্বাচনী সহিংসতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। সূচনা বক্তব্যে তাসকিন ফাহমিনা জানান, অধিকার-এর তথ্য অনুযায়ী ২০০১ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় বাংলাদেশে ৬ হাজার ৯১ জন নিহত এবং ২ লাখ ৫৩ হাজার ৪০ জন আহত হয়েছেন। আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা মূল্যায়নে স্কোরকার্ড চালুর প্রস্তাবও উঠে আসে। বক্তারা বলেন, যারা রাজনীতিকে একমাত্র পেশা হিসেবে নিয়েছেন, তাদের মধ্যে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের প্রবণতা দেখা যায়। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের বড় একটি অংশ ব্যবসায়ী হওয়ায় জনকল্যাণের পরিবর্তে মুনাফা অর্জনের প্রতি তাদের মনোযোগ বেশি থাকে বলেও মত দেওয়া হয়। রাজনৈতিক দলগুলো গণতান্ত্রিক মানসিকতা ধারণ না করলে রাষ্ট্রের গণতন্ত্রায়ণ সম্ভব নয় বলেও সভায় মত দেন বক্তারা। তাদের মতে, দলগুলোর মধ্যে ফ্যাসিস্ট মানসিকতার পরিবর্তে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। নির্বাচনে দলীয় এজেন্ট নিয়োগের বর্তমান ব্যবস্থারও সমালোচনা করা হয়। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন প্রভাবিত বা ম্যানিপুলেট করার সুযোগ তৈরি হয় বলে সভায় মত দেওয়া হয়। এ কারণে দলীয় এজেন্ট নিয়োগ ব্যবস্থা বাতিলের আহ্বান জানান বক্তারা। রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় না এনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের হয়রানি করার প্রবণতাকেও নির্বাচনী সহিংসতা অব্যাহত থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বক্তারা বলেন, এ ধরনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি পরিবর্তন করা জরুরি। ইপিডির প্রকল্প পরিচালক এনাসথেসিয়া উইবাওয়া বলেন, প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য ও সুপারিশ বিবেচনায় নিলে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতা প্রতিরোধে তা ভূমিকা রাখতে পারে। নির্বাচনী সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকারে সংস্কার কার্যক্রম, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ এবং নির্বাচন-পরবর্তী মূল্যায়ন বা পোস্ট ইভ্যালুয়েশন প্রক্রিয়া চালুর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভোটার শিক্ষার প্রসার, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং আচরণবিধি আরও শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা...