ডারউইন টেস্টে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের বড় লিড নিয়েছে বাংলাদেশ। ১৯৮ রানে অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করেছে। জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ২২ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ৭৭ রান করেছে স্বাগতিকরা।
অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতেই আঘাত হানেন হাসান মাহমুদ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে জেইক ওয়েদারাল্ডকে শূন্য রানে বোল্ড করেন তিনি। এরপর ট্রাভিস হেডকেও ফেরান বাংলাদেশের এই পেসার। অফ স্টাম্পের বাইরের লেংথ বল কাট করতে গিয়ে ইনসাইড এজে বোল্ড হন হেড।
হাসানের দুই আঘাতের পর মার্নাস লাবুশেন ও স্টিভ স্মিথ মিলে প্রতিরোধ গড়েন। দুজনের ৩৬ রানের জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ৫৯ বলে ৩১ রান করে তাইজুলের বলে বোল্ড হন লাবুশেন। এরপর ২২ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ৭৭ রান অস্ট্রেলিয়ার। ক্রিজে আছেন স্টিভ স্মিথ ও নতুন ব্যাটার।
এর আগে বাংলাদেশের ইনিংসের শেষদিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মেহেদী হাসান মিরাজ। লাঞ্চের পর জশ হ্যাজলউডের বলে অ্যালেক্স ক্যারির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ১৫৪ বলে ৬৫ রান করেন মিরাজ।
মিরাজের উইকেট নিয়ে টেস্টে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করার পাশাপাশি ৩০০ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছান হ্যাজলউড। অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে টেস্টে ৩০০ উইকেটের ক্লাবে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর এবাদত হোসেনকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ করেন এই পেসার। ১৮ বলে ৭ রান করেন এবাদত।
বাংলাদেশের ৪২৬ রানের ইনিংসে তানজিদ হাসান তামিমের ১০১, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ এবং মিরাজের ৬৫ রান উল্লেখযোগ্য। তৃতীয় দিনের শুরুতে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ।
দিনের প্রথম সেশনে হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ইসলামের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মিরাজের সঙ্গে ৪৬ রানের জুটি গড়ার পর ৯২ বলে ১৪ রান করে হাসান আউট হন। হ্যাজলউডের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। পরে ২৩ বলে ১৭ রান করা তাইজুল হ্যাজলউডের বলেই গালিতে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দেন।
তবে মিরাজ এক প্রান্ত ধরে রাখেন। ১১৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পথে হ্যাজলউডের একটি এলবিডব্লিউ আবেদন থেকে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তিনি। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল স্টাম্পের বাইরে দিয়ে যাচ্ছিল।
বাংলাদেশের লিড ২০০ ছাড়ানোর পর প্যাট কামিন্সের বলে চার মেরে দলকে ৪০০ রানে পৌঁছে দেন তাসকিন আহমেদ। পরের বলেই স্কয়ার লেগে স্টিভ স্মিথ তার ক্যাচ নিতে পারেননি। সেশনের শেষ দিকে ক্যামেরন গ্রিনের বাউন্সারে ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কা মারেন মিরাজ।
লাঞ্চে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ৪১৭ রান, তখন মিরাজ ৬৫ ও তাসকিন ১২ রানে অপরাজিত ছিলেন। প্রথম সেশনে ২৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৬৬ রান যোগ করে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশের সংগ্রহে আরও ৯ রান যোগ হয়। এরপর অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে নতুন বল হাতে বাংলাদেশ দ্রুত দুই উইকেট তুলে নেয়। হাসানের পর তাইজুলের আঘাতে স্বাগতিকরা চাপে পড়ে যায় এবং দিনের শেষ ভাগে ১৭৭ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাট করছে অস্ট্রেলিয়া।