চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের বন্যাকবলিত মানুষ স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলার কারণে পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
শনিবার (১১ জুলাই) রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন, সীমান্তে পুশ-ইন বন্ধ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের দাবি, ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করেও বিপুলসংখ্যক মানুষ এতে অংশ নেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য তারা দোয়া করছেন। তবে স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলার কারণে অনেকেই প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তার দাবি, বিএনপি-সমর্থিত মেয়র নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সরকার সীমান্তে পুশ-ইন এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধে ব্যর্থ হয়েছে। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রংপুর বিভাগের উন্নয়ন বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এ অঞ্চল উন্নয়নবঞ্চিত। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে রংপুরের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও তা পূরণ হয়নি। বরং বরাদ্দ কমানো হয়েছে এবং বড় কোনো উন্নয়ন প্রকল্পও রাখা হয়নি। এমনকি উন্নয়ন বরাদ্দে রংপুর সিটি করপোরেশনের নামও নেই বলে দাবি করেন তিনি।
বিরোধীদলীয় আসনে বরাদ্দ কমানোর সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রয়োজনে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের বেতন বন্ধ করা যেতে পারে, কিন্তু সমালোচনার কারণে জনগণের উন্নয়ন অধিকার খর্ব করা উচিত নয়। তিনি রংপুরের জন্য বিশেষ বরাদ্দ এবং দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান।
বক্তব্যে বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসেরও সমালোচনা করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তার অভিযোগ, দলটি গণভোট, একত্রিশ দফা, জুলাই সনদ এবং গণতন্ত্রের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তারা সংসদ ও রাজপথ—উভয় জায়গাতেই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।