ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে কোনো ধরনের আলোচনা বা বৈঠকের প্রস্তুতি নেই। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রতিনিধি বিনিময় বা আনুষ্ঠানিক সংলাপের কোনো পরিকল্পনাও তেহরানের নেই। এর মাধ্যমে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে সরাসরি নাকচ করল ইরান।
সোমবার সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই এ অবস্থান তুলে ধরেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাকেই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানানোর কিংবা ইরানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা বর্তমানে নেই।
তিনি জানান, এই মুহূর্তে ইরানের অগ্রাধিকার হলো হরমুজ প্রণালী-সংক্রান্ত বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাকেই বলেন, 'আমরা এখন এমন একটি পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি যা উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে—এটি উত্তর দিকের পথও নয়, আবার দক্ষিণ দিকের পথও নয়। তবে এমন এক পথ হতে হবে যা উভয় দেশের সার্বভৌম অধিকারকে সম্মান জানায় এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষা করে।'
এর আগে রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, পরদিনই ইরানের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
সেই আলাপচারিতায় ট্রাম্প আরও বলেন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবসহ পারস্য উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর অনুরোধে তিনি ইরানের ওপর নতুন কোনো মার্কিন হামলার নির্দেশ স্থগিত রেখেছেন। এ বিষয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তাঁর টেলিফোনে কথাও হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, 'আমি যুবরাজকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম—আপনারা কোনটি চান? আমরা হামলা চালাই নাকি না চালাই? তারা স্পষ্ট জানায়, তারা হামলার চেয়ে একটি সমঝোতা বা চুক্তিকেই বেশি পছন্দ করবে। কারণ এ ধরনের হামলা পরিস্থিতিকে শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে যাবে, তা কারো জানা নেই।'