কিডনির নীরব ক্ষতি: যে ৩ কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে মানুষ

| প্রিন্ট সংস্করণ
 ছবি: এ আই জেনারেটেড
ছবি: এ আই জেনারেটেড

কিডনি সুস্থ রাখতে জানুন বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি। শরীরের রক্ত পরিশোধন, বর্জ্য ও অতিরিক্ত তরল অপসারণ, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং খনিজের ভারসাম্য রক্ষায় কিডনির ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত তেমন কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। ফলে অনেক সময় রোগ শনাক্ত হওয়ার আগেই কিডনির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়ে যায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক জীবনযাপন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং অসচেতনতার কারণে বিশ্বজুড়ে কিডনি রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে কয়েকটি সাধারণ অভ্যাস কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

কিডনির সবচেয়ে বড় শত্রু কোনগুলো?

১. অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ

কিডনি বিকলের প্রধান কারণ হিসেবে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপকে দায়ী করা হয়। দীর্ঘদিন রক্তে অতিরিক্ত শর্করা থাকলে কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একইভাবে উচ্চ রক্তচাপ কিডনির ফিল্টারিং ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা ধীরে ধীরে কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে কিডনি রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

২. ব্যথানাশক ওষুধের অপব্যবহার

সামান্য ব্যথা হলেই অনেক মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করেন। দীর্ঘদিন বা অতিরিক্ত মাত্রায় এসব ওষুধ ব্যবহার করলে কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

বিশেষ করে নিয়মিত ব্যথানাশক সেবনের ফলে কিডনির রক্তপ্রবাহ কমে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনি বিকলের কারণ হতে পারে।

৩. প্রয়োজন ছাড়া সাপ্লিমেন্ট ও হারবাল পণ্য গ্রহণ

বর্তমানে অনেকেই শরীর গঠন, ওজন নিয়ন্ত্রণ কিংবা দ্রুত শক্তি বৃদ্ধির আশায় বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট, হারবাল ওষুধ ও খাদ্য-পরিপূরক গ্রহণ করছেন। কিন্তু প্রয়োজন ও শারীরিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকলে এসব পণ্য কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।

কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন?

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

কিডনি ভালো রাখতে শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত একজন সুস্থ মানুষের জন্য দৈনিক ২ থেকে ৩ লিটার পানি যথেষ্ট বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

পর্যাপ্ত পানি শরীর থেকে বর্জ্য অপসারণে সাহায্য করে এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করুন
    •    অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করুন।
    •    প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন।
    •    স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
    •    ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য থেকে দূরে থাকুন।
    •    পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন

কিডনি রোগ অনেক সময় নীরবে অগ্রসর হয়। তাই বছরে অন্তত একবার রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা উচিত। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে নিয়মিত চেকআপ অত্যন্ত জরুরি।

সচেতনতাই কিডনি সুরক্ষার প্রথম ধাপ

কিডনি আমাদের শরীরের এমন একটি অঙ্গ, যা প্রতিনিয়ত নীরবে কাজ করে যাচ্ছে। অথচ সামান্য অসচেতনতা এর স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই সুস্থ জীবনযাপন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনিকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

মনে রাখবেন, কিডনি রোগের চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ অনেক সহজ। আজকের সচেতনতাই আগামী দিনের সুস্থ জীবনের নিশ্চয়তা হতে পারে

বিষয়:

গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানা ক্ষতিগ্রস্ত, সরবরাহ বাড়াতে সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

‘বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে অন্তত ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হতো না’: আসিফ নজরুল

গ্রিন-ক্যারির প্রতিরোধে দিন শেষ, জয়ের পথে বাংলাদেশ?

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত হলেন রিজভীসহ চার নেতা

৩১ দফা দেয়, ৩২ দফা পর্যন্ত পূরণ করে—এর নাম বিএনপি: সালাহউদ্দিন

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ও শিঙাড়া বিলির অভিযোগে তিনজনকে মারধর

দুই এলএনজি টার্মিনাল চালু, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ল

অক্টোবরে একসঙ্গে পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর আশা প্রধানমন্ত্রীর

দুই-এক দিনের মধ্যেই ছাত্রদলের নতুন কমিটি, দায়িত্ব ছাড়ার বার্তা রাকিবের

১০

হাসানের জোড়া আঘাতের পর তাইজুলের শিকার লাবুশেন

১১

হরমুজে হামলার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

১২

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প

১৩

১৫ আগস্ট ঘিরে সারাদেশে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা র‌্যাবের

১৪

‘গণভোটের রায় কার্যকর হলে বিপুল ভোটে জিততেন অলি আহমদ’

১৫

সালাহউদ্দিনকে স্থানীয় সরকার, স্বরাষ্ট্রের দায়িত্বে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি

ধর্ষণ মামলায় চট্টগ্রাম এনসিপির নেতা আফতাব মজুমদার জয় গ্রেপ্তার

কাসেমিরোকে দলে ভেড়ানোর পর তদন্তে ইন্টার মায়ামি

তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান

কৃষক কার্ডে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা পাবেন প্রান্তিক কৃষকরা

প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলন থেকে শিক্ষামন্ত্রী, শেষ পর্যন্ত একই ইস্যুতেই পদত্যাগ ধর্মেন্দ্র প্রধানের

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

একরামুল হক হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে

ইরানের ১৫০ টনের কার্গো বার্জে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

মতিঝিলে উদ্ধার শক্তিশালী পাইপ বোমা, উল্টোরথ যাত্রা ছিল সম্ভাব্য লক্ষ্য

১০

দ্বিতীয় যমুনা ও তৃতীয় মেঘনা সেতুর পরিকল্পনা

১১

ফুলহামের মূল দলে সুযোগ পেয়েই নজর কাড়লেন ফারহান, বাড়ছে বাংলাদেশের স্বপ্ন

১২

রাজধানীর বাসব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা, কমছে রুট ও অপারেটর

১৩

রায়পুরে জমি ও মন্দির নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৮

১৪

সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে আইন অনুযায়ী সব সুবিধা পাবেন সাহাবুদ্দিন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৫

বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, উঠলেন গুলশানের বাসভবনে

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত