এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা—দুই সূচকেই বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। একই সঙ্গে শূন্য শতাংশ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
ফলাফলে পাসের হার কমে যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, পরীক্ষায় নম্বর দেওয়া যায় না।’
শিক্ষকরা খাতা মূল্যায়ন ও নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে এবার আগের তুলনায় কঠোর ছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গান গাওয়ার ক্ষেত্রে উদারতা দেখানো গেলেও পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে সে সুযোগ নেই।
এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার হয়েছে ৬৪ দশমিক ০৪ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে প্রায় ৪ শতাংশ।
১১টি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও আগের বছরের তুলনায় কমেছে।
ফলাফলের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো শূন্য শতাংশ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫৭টি, যেখানে গত বছর ছিল ৪৮টি।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আরও বেশি বেড়েছে। এবার এ সংখ্যা ২২৬টি, যা ২০২৫ সালে ছিল ৮৬টি।
অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে গত বছর কোনো প্রতিষ্ঠানেই শূন্য শতাংশ পাসের ঘটনা ছিল না। এবার সেখানে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯টি।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ প্রত্যাশিত ফল পেয়ে সন্তুষ্ট হলেও পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে হতাশাও তৈরি হয়েছে।