ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও শিশুদের টিকাদান বন্ধ রাখেনি রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার। তবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিবর্তে এখন সড়কের পাশে ত্রিপল টানিয়ে অস্থায়ী ব্যবস্থায় চলছে টিকাদান। এতে শিশুদের নিয়ে আসা অভিভাবকদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বাইরে টেবিল-চেয়ার বসিয়ে শিশুদের হামসহ নিয়মিত টিকা দেওয়া হচ্ছে। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত প্রায় ১২০ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রটির কর্মকর্তারা।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বলেন, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার থেকে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়ায় খালি জায়গায় ত্রিপল টানিয়ে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশপাশের শিশুদের টিকাদান যেন ব্যাহত না হয়, সে জন্য এই পরিস্থিতিতেও সেবা চালু রাখার চেষ্টা করছেন তাঁরা। তবে অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা আপাতত আগের মতো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
অস্থায়ী কেন্দ্রটিতে সন্তানকে টিকা দিতে আসা অভিভাবকদের অনেকেই পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ জানান। এক মা বলেন, আগেরবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে বসে সন্তানকে টিকা দিতে পেরেছিলেন। এবার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে শিশুর কষ্ট হচ্ছে, কান্নাকাটিও করছে।
দেড় বছর বয়সী মেয়ে হালিমাকে টিকা দিতে নিয়ে আসা তাঁর মা জানান, বাসার কাছে হওয়ায় আগে থেকেই তিনি এই কেন্দ্র থেকে টিকা নিয়ে আসছেন। অন্যদিকে, ইসরাত নামের এক নারী আগামী মাসে মেয়ের টিকা দেওয়ার তারিখ থাকায় সেবাটি চালু থাকবে কি না, তা জানতে কেন্দ্রে আসেন। তাঁকে জানানো হয়েছে, আগামী মাসেও টিকা দেওয়া হবে।
কর্মকর্তারা জানান, হাম নিয়ন্ত্রণে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকার পাশাপাশি নিয়মিত টিকাও দেওয়া হচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলার কথা।
এদিকে কেন্দ্রটি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), মো. জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাবিব (২০)।
শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা ভাঙচুরে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে দুই শতাধিক মুখোশধারী ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রটিতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল লুট করা হয়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে এ ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে রাড্ডা কর্তৃপক্ষ। ঘটনায় এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। এ ঘটনায় তাঁর করা মামলাটি শাহআলী থানায় রয়েছে।