চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার এক দুর্গম চরাঞ্চলে বসতঘরের শয়নকক্ষে জমা করে রাখা ২৫ থেকে ৩০টি ককটেল একযোগে বিস্ফোরিত হয়েছে। বিকট এই বিস্ফোরণে ঘরটির ইটের দেয়াল ধসে পড়ার পাশাপাশি টিনের চাল উড়ে গিয়ে অবকাঠামোটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। তবে ঘটনার সময় ঘরে কেউ না থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সোমবার রাত আটটার দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী নারায়নপুর ইউনিয়নের নয়রশিয়া (মুসা মাওলানাপাড়া) গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী ইয়াহিয়ার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। ধসে পড়া বাড়িটি থেকে বিস্ফোরণের পরপরই স্বজনসহ বাড়িটির সব বাসিন্দা আত্মগোপনে চলে যান।
ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে ঘটনার পরপরই সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৌঁছাতে পারেনি। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, পদ্মা নদী পার হয়ে রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে পুলিশ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে পুলিশ ধারণা করছে, চরাঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখা এবং প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ এই বিস্ফোরক ঘরের ভেতর মজুত করা হয়েছিল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিস্ফোরণের মূল নেপথ্যে রয়েছে এলাকার একটি অস্থায়ী জলাশয়ের মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী বিরোধ। বর্ষার মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে জোহরপুর মাঠপাড়া কালভার্টসংলগ্ন এলাকায় একটি প্রাকৃতিক মাছের ঘের তৈরি হয়। ওই ঘেরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে গত তিন-চার দিন ধরে দুটি গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর মধ্যে এক পক্ষে রয়েছেন বাড়ির মালিক ইয়াহিয়া, সালাম ও মো. বাবু এবং অপর পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আবদুস সালাম ওরফে কালু।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নাজির আহমেদ জানান, ওই নির্দিষ্ট জলাশয়টিতে প্রতিবছর পানি এলে মাছ ধরা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। ইতিপূর্বেও এই ঘেরের দখল নিয়ে একাধিক সংঘাত এবং হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় উপজেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় লিখিত প্রতিবেদন জমা দিয়ে প্রশাসনিক নজরদারি ও হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছিল। সময়মতো কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
ঘটনাটি ঘিরে সীমান্তবর্তী ওই গ্রামে বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।