লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে বরাদ্দ করা মানবিক সহায়তার অর্থ বিতরণের তালিকায় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম থাকায় প্রশ্ন উঠেছে। গরিব, দুস্থ ও অসহায় ৪৮৬ জনের মধ্যে সহায়তা বিতরণ করা হলেও তাঁদের কয়েকজনকে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের পদধারী ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল খায়ের ভূঁইয়া। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ৪৮৬ জনের মধ্যে মোট ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
অর্থ গ্রহণকারীদের মধ্যে পৌর বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, একই ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন লস্কর, একজন যুবদল নেতা এবং ছাত্রদলের ওয়ার্ড সভাপতিকে দেখা যায়। তাঁদের অর্থ গ্রহণের ছবি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ছবিগুলো প্রকাশের পর স্থানীয়দের কেউ কেউ সরকারি সহায়তার উপকারভোগী নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের প্রশ্ন, গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ বিতরণের আগে কী ধরনের যাচাই-বাছাই করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক দলের পদধারী ব্যক্তিরা কোন যোগ্যতায় তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবির নিচে একজন মন্তব্য করেন, ‘এখানে গরিব কে?’ এ ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, দলীয় স্বচ্ছল কেউ সহায়তা পেয়েছেন কি না, তা তাঁর জানা নেই।
তিনি বলেন, ‘এমপি তাঁর মতো করে তালিকা করেছেন। যাঁদের দেওয়ার প্রয়োজন মনে হয়েছে, তাঁদেরই দিয়েছেন।’
উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সমালোচনাকারীরা।