আগামী অক্টোবরে কঠিন পুনর্নির্বাচনী লড়াইয়ের মুখে থাকা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রচারণায় জায়গা পেয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলে টানানো একটি বিলবোর্ডে তাকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিসহ ইরান, হিজবুল্লাহ ও তুরস্কের নেতাদের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থি ও জাতীয়তাবাদী দল লিকুদ পার্টির অর্থায়নে বিলবোর্ডটি স্থাপন করা হয়েছে। নেতানিয়াহু নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর একটি ছবি প্রকাশ করেছেন।
বিলবোর্ডে মোজতবা খামেনি, জোহরান মামদানি, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেমের মুখচ্ছবি রয়েছে। তাদের ছবির ওপরে লেখা হয়েছে, 'তারা চায় নেতানিয়াহু হেরে যাক।' হিব্রু ভাষায় আরেকটি বার্তায় বলা হয়েছে, 'তাদের জিততে দেবেন না।'
নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি মধ্যপন্থি ইয়াশার পার্টির চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। আঞ্চলিক সংঘাত মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা, ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পথ তৈরি করা নিরাপত্তাব্যর্থতা এবং নেতানিয়াহুর চলমান দুর্নীতি মামলা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে হতাশা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রচারণার বিলবোর্ডে মামদানির উপস্থিতি নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ক্রমবর্ধমান বিরোধকেও সামনে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শহরটির প্রথম মুসলিম মেয়র মামদানি গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের কঠোর সমালোচক। তিনি নেতানিয়াহুকে 'যুদ্ধাপরাধী' হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।
জুলাইয়ে মামদানি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে গেলে তাকে গ্রেপ্তারের আইনি পথ খুঁজে দেখছেন তিনি। গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন।
পরে অবশ্য মামদানি স্বীকার করেন, এমন পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা নিউইয়র্ক শহরের নেই। এরপর তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মিত্র নেতানিয়াহুকে আশ্বস্ত করেন, জাতিসংঘের সমাবেশে যোগ দিতে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে না।
মামদানির অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরায়েল। জাতিসংঘে দেশটির রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন তাকে ইহুদিবিদ্বেষী এবং হামাসের সমর্থক বলে অভিযোগ করেন। নেতানিয়াহুও বলেছেন, মামদানির কর্মকাণ্ড 'ঘৃণা উসকে দিচ্ছে'।
তবে মামদানি হামাসের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেননি। তিনি গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করার পাশাপাশি দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও আর্থিক সহায়তারও তীব্র বিরোধিতা করেছেন।
গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দেশটির প্রতি সমর্থন কমেছে। এর প্রভাবে কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে ইসরায়েলকে সমর্থন করার যে ঐকমত্য ছিল, তাতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে।